You are reading tafsir of 10 ayahs: 74:1 to 74:10.
নামকরণ : الْمُدَّثِّرُ অর্থ :
বস্ত্রাবৃত, বস্ত্রাচ্ছাদিত। এর দ্বারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করা হয়েছে। অত্র সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত الْمُدَّثِّرُ শব্দ থেকেই এ সূরার নামকরণ করা হয়েছ।
শানে নুযূল :
ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সালামাহ বিন আব্দুর রহমানকে কুরআনের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয় এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি জবাবে বলেন :
(يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ)
এ আয়াতটি। ইয়াহইয়া বলছেন : মানুষ বলে-
(اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ)
এ আয়াত সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। আবূ সালামাহ বললেন : এ সর্ম্পকে আমি জাবের (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং তাকে সেরূপ বলতে শুনেছি তুমি যেরূপ আমাকে বলেছ। জাবের (রাঃ) বলছেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা আমাকে বলেছেন তোমাকে তাই বলব। তিনি বলেছেন : আমি হেরা পর্বতের গুহায় আমার প্রভুর ইবাদতে মগ্ন ছিলাম। সেখান থেকে অবতরণ করে আমি শুনতে পেলাম, কে যেন আমাকে ডাকছে। আমি আমার সামনে-পেছনে, ডানে এবং বামে তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি তখন মাথা উপরের দিকে তুললে কিছু দেখতে পেলাম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সে ফেরেশতাকে দেখতে পেলাম যে হেরা গুহায় আগমন করেছিল। সে একটি চেয়ারে বসে আছে। (সহীহ বুখারী : ৪৯২৫) আমি খাদিজা (রাঃ)-এর কাছে চলে আসি। (পূর্বের বর্ণনায় রয়েছে আমি ভয়ে মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ি) খাদিজা (রাঃ)-কে বলি : আমাকে চাদরাবৃত কর এবং ঠাণ্ডা পানি ঢালতে থাকো। খাদিজা (রাঃ) তা-ই করলেন। তখন
(يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ)
আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী : ৪৯২৪)
শানে নুযূল থেকে বুঝা গেল এ আয়াতগুলো প্রথম অবতীর্ণ নয়। কারণ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন : সেই ফেরেশতাকে দেখতে পেলাম যে হেরা গুহায় এসেছিল। অর্থাৎ ইতোপূর্বে জিবরীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে হেরা গুহায় এসেছিলেন। মূলত এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কিছু দিন (ওয়াহী আসা বন্ধ থাকার) পর। তাই প্রথম অবতীর্ণ সূরা বলা হয়েছে। (মাবাহিস ফী উলূমুল কুরআন)
সূরাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দাওয়াতী মিশনে অনুপ্রেরণা ও আল্লাহ তা‘আলার সস্তুষ্টির জন্য দাওয়াতী কাজে ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের আমল সংশোধন করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১-১০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
সূরার প্রথম সাতটি আয়াত আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে মানব জাতিকে সতর্ক, পার্থিব জীবনের যাবতীয় দুর্দশা, দুষ্কর্ম ও শিরকের পংকিলতা থেকে রক্ষা করে আখিরাতের আযাব থেকে নাজাতের দিকে আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সতর্ক করার কাজটি রিসালাতের প্রধান কাজ, যুগে যুগে প্রত্যেক রাসূল এ অমিয়বাণী নিয়েই স্বজাতির কাছে আগমন করেছিলেন। এখন যেহেতু নাবী আসবে না তাই এ মহৎ দায়িত্বটি উম্মাতে মুহাম্মাদীর ওপর আরোপিত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রত্যেক অনুসারীদের ওপর তা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(قُلْ ھٰذِھ۪ سَبِیْلِیْٓ اَدْعُوْٓا اِلَی اللہِ عَلٰی بَصِیْرَةٍ اَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِیْ وَسُبْحٰنَ اللہِ وَمَآ اَنَا مِنَ الْمُشْرِکِیْنَ))
“বল : ‘এটাই আমার পথ, আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে ও দলীল-প্রমাণের সাথে আমি এবং আমার অনুসারীগণও। আল্লাহ মহিমান্বিত এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা ইউসুফ ১২ : ১০৮)
তবে মানুষ গোমরাহ হলে আল্লাহ তা‘আলার কোন ক্ষতি বা মানুষ সুপথ পেলে আল্লাহ তা‘আলার কোন উপকার হবে এমন নয় বরং মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার দয়া যে, তিনি চান না কোন বান্দাকে জাহান্নামে দিতে। তিনি চান প্রত্যেক বান্দাই জান্নাতে যাক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(مَا يَفْعَلُ اللّٰهُ بِعَذَابِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَاٰمَنْتُمْ ط وَكَانَ اللّٰهُ شَاكِرًا عَلِيْمًا)
“তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ও ঈমান আন তবে তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কী করেন? আল্লাহ পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা নিসা ৪ : ১৪৭) কিন্তু মানুষ তাদের কর্মের মাধ্যমে নিজেদেরকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।
(قُمْ فَأَنْذِرْ) অর্থাৎ তুমি ওঠো, শুয়ে থেকো না। মানুষকে আখিরাতের শাস্তির ভয় দেখাও। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ)
“আর তুমি তোমার নিকটতম আন্তীয়-স্বজনদের ভীতি প্রদর্শন কর” (সূরা শুআরা ২৬ : ২১৪)। প্রথম ওয়াহী দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নাবীরূপে মনোনীত করা হয়েছে, আর এ ওয়াহী দ্বারা তাঁকে রাসূল বানানো হয়েছে। (ইবনু কাসীর)
(وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ)
অর্থাৎ একমাত্র তোমার প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা কর। বস্তুত এ বিশ্ব জগতে যত প্রাণী, বস্তু ও সৃষ্টি আছে তার সবই ছোট ও নগণ্য। একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই বড়, শ্রেষ্ঠ ও মহান। সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোৎকৃষ্ট, সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম আল্লাহ তা‘আলার সামনে সকল সত্তা, শক্তি ও বস্তু ইত্যাদি অদৃশ্য ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এ ঈমানী আকীদাহ-বিশ্বাস, প্রত্যয় ও চেতনা নিয়ে মানবজাতিকে সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ)
এ আয়াতের দুটি তাফসীর হতে পারে :
(১) এর দ্বারা উদ্দেশ্য আমলকে সকল প্রকার রিয়া, খারাবী, নিফাকী ও অহংকার ইত্যাদি থেকে সংশোধন ও পবিত্র করা। এতে কাপড়ের পবিত্রতাও শামিল। কেননা কাপড়কে পবিত্র রাখা আমলকে পবিত্র রাখার পরিপূর্ণতা, বিশেষ করে সালাতে। এটাই অধিকাংশ আলেমের অভিমত।
(২) কাপড় পবিত্র রাখা। অর্থাৎ সকল প্রকার নাজাসাত থেকে পবিত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে। (তাফসীর সা’দী)
(وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ)
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : الرُّجْزَ হল মূর্তি, প্রতিমা। আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করা হয়। যহহাক (রহঃ) বলেন : আয়াতের অর্থ হল : অবাধ্য কাজ ছেড়ে দাও। (ইবনু কাসীর)
আল্লামা সা‘দী (রহঃ) বলেন : الرُّجْزَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল সকল খারাপ কাজ ও কথা। তাই বলা যায়, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ছোট-বড়, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল প্রকার পাপ কাজ বর্জন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশে শির্কও শামিল। মূলত এটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে উম্মাতের সকলকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
(وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন : উপহার বা বেশি পাওয়ার আশায় কোন প্রকার দান কর না (ইবনু কাসীর)। বরং তোমার সকল কাজ ও দানের প্রতিদান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছেই আশা কর।
(وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ)
‘এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ কর।’ মুজাহিদ বলেন : তুমি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্য ধারণ করবে।
(فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُوْر)
ইবনু আব্বাস, মুজাহিদ, হাসান বাসরীসহ প্রমুখ বলেন : النَّاقُوْر হল শিংগা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আমি কি করে শান্তিতে থাকতে পারি? অথচ শিংগা ধারণকারী ফেরেশতা নিজের মুখে শিংগা ধরে রেখেছে এবং ললাট ঝুঁকিয়ে আল্লাহ তা‘আলার হুকুমের অপেক্ষায় বসে আছে কখন হুকুম হয়ে যাবে এবং তিনি শিংগায় ফুঁৎকার দেবেন। সাহাবীগণ বললেন : হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আপনি কী করতে বলছেন ? জবাবে তিনি বলেন : তোমরা নিম্নের কালেমাটি বলতে থাকবে :
حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الوَكِيلُ عَلَي اللّٰهِ تَوَكَّلْنا
আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক, আমরা আল্লাহ তা‘আলার ওপরেই ভরসা করি। (তিরমিযী হা. ২৪৩১, সহীহ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : عَسِيْرٌ অর্থ شديد বা কঠিন। (সহীহ বুখারী) অর্থাৎ যেদিন শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে সেদিনটি খুবই কঠিন, বিশেষ করে কাফিরদের জন্য। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি নিজে যেমন সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকবে, কোন প্রকার নাজাসাত ও শিরকে লিপ্ত হবে না তেমনি সে পবিত্রতার দিকেও মানুষদেরকে আহ্বান করবে। তাহলে উম্মাতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সম্ভব হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রত্যেক অনুসারীর ওপর আবশ্যক মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করা।
২. একজন মু’মিন তার সকল প্রকার কাজ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য সম্পাদন করবে।
৩. শির্ক এক প্রকার অপবিত্রতা, তা থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.